শরিফ ওসমান হাদি আর নেই | ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হয়ে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন। তাঁর জীবন, আন্দোলন, গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা ও মৃত্যুর বিস্তারিত তথ্য জানুন।
শরিফ ওসমান হাদি আর নেই
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে আলোচিত নাম শরিফ ওসমান হাদি। ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও আহ্বায়ক হিসেবে পরিচিত এই তরুণ নেতা আর নেই। গুলিবিদ্ধ হয়ে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাত পৌনে ১০টার দিকে তিনি ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তাঁর মৃত্যু দেশজুড়ে শোকের আবহ সৃষ্টি করেছে।
শরিফ ওসমান হাদি ছিলেন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও অন্যতম সংগঠক। তিনি তরুণ সমাজের মধ্যে পরিচিত ছিলেন স্পষ্টভাষী বক্তব্য, সাহসী অবস্থান এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন মনোভাবের জন্য। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ ও ভারতবিরোধী বক্তব্যের কারণে তিনি সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাপক আলোচনায় আসেন।
রাজনৈতিক মতাদর্শে ভিন্নমত থাকলেও অনেকেই তাঁর সাহস, দৃঢ়তা এবং ত্যাগের মানসিকতাকে সম্মান জানাতেন।
গত শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) ঢাকার বিজয়নগর এলাকায় গণসংযোগে অংশ নিতে গেলে চলন্ত একটি মোটরসাইকেল থেকে গুলি ছোড়া হয়। এতে মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন শরিফ ওসমান হাদি।
গুলিবিদ্ধ হওয়ার পরপরই তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক অস্ত্রোপচারের পর অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে (এভারকেয়ার) স্থানান্তর করা হয়।
ওসমান হাদির শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে দেশের বাইরে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। রোববার (১৪ ডিসেম্বর) প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নির্দেশনায় সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টারা ও চিকিৎসকরা এক জরুরি কল কনফারেন্সে বসেন।
এরপর সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাঁকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। সেখানে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাঁকে। চিকিৎসক দল জানান, তাঁর মাথায় জরুরি অস্ত্রোপচার ছাড়া বেঁচে থাকার সম্ভাবনা অত্যন্ত কম।
বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) বিকেলে পরিবারের সম্মতিতে জরুরি অস্ত্রোপচার করা হয়। বাংলাদেশ সময় বিকেল ৫টার দিকে তাঁকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়। তবে অস্ত্রোপচার শেষে আর কোনো ইতিবাচক আপডেট পাওয়া যায়নি।
পরে সিঙ্গাপুর থেকেই নিশ্চিত করা হয়—শরিফ ওসমান হাদি আর নেই।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগের চিকিৎসক ডা. মো. আব্দুল আহাদ এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে জানান, অস্ত্রোপচারের পরপরই তাঁর মৃত্যুর সংবাদ পাওয়া গেছে।
শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর ( শরিফ ওসমান হাদি আর নেই ) খবরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোকের ঢল নামে। ইনকিলাব মঞ্চের ফেসবুক পেজে তাঁর মৃত্যুর খবর প্রকাশ করা হয় রাত ৯টা ৪৬ মিনিটে।
তরুণ প্রজন্মের কাছে জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব ড. মির্জা গালিব আবেগঘন পোস্টে লেখেন—
“যে বুলেট তুমি মাথা পেতে নিয়েছ ভাই আমার, আমাদের সারাটা জীবন আমরা সেই বুলেট ফিরিয়ে দেওয়ার রাজনীতি করে যাব, ইনশাআল্লাহ।”
অনেকে তাঁকে সাহস, ত্যাগ ও প্রতিবাদের প্রতীক হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। অনেকেই মন্তব্য করেছেন—শরিফ ওসমান হাদি শারীরিকভাবে চলে গেলেও তাঁর আদর্শ বেঁচে থাকবে।
এই কারণগুলোই তাঁকে একদিকে জনপ্রিয়, অন্যদিকে বিতর্কিত করে তুলেছিল।
ওসমান হাদির মরদেহ বাংলাদেশে আনার বিষয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও কর্মকর্তারা। প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যু শুধু একটি ব্যক্তির মৃত্যু নয়, বরং এটি বাংলাদেশের সমসাময়িক রাজনৈতিক বাস্তবতায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি। তাঁকে ঘিরে মতপার্থক্য থাকলেও তাঁর সাহস, আত্মত্যাগ এবং দৃঢ় অবস্থান অস্বীকার করার সুযোগ নেই।
একজন মানুষ চলে যান, কিন্তু তাঁর রেখে যাওয়া প্রশ্ন, আদর্শ এবং প্রভাব সমাজে দীর্ঘদিন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে থাকে। শরিফ ওসমান হাদিও তেমনই এক নাম—যাকে নিয়ে আলোচনা, সমালোচনা ও স্মরণ চলতেই থাকবে।
আল্লাহ তায়ালা তাঁকে জান্নাতুল ফেরদাউস নসিব করুন। আমিন।
২০২৬ সালের বিআরটিএ ড্রাইভিং লাইসেন্স লিখিত পরীক্ষার প্রশ্ন ও উত্তর এবং সর্বশেষ নিয়ম জানুন এখানে।…
২০২৬ সালে ড্রাইভিং লাইসেন্স চেক করার নিয়ম কি বদলেছে? ঘরে বসে অনলাইনে, অ্যাপ বা এসএমএসের…
Discover the Top 5 Best Car Selling Website in Bangladesh. Get the latest new &…
গাড়ির ব্যাটারি ফুলে যাওয়া একটি গুরুতর সমস্যা যা অগ্নিকাণ্ড, বিষাক্ত রাসায়নিক নির্গমন এবং গাড়ির ক্ষতির…
গাড়ির ব্যাটারি ফুলে যাওয়া প্রতিরোধে জরুরি সতর্কতা ও রক্ষণাবেক্ষণ পরামর্শ, গাড়ির ব্যাটারি ফুলে যাওয়া একটি…
পেশাদার ও অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স, এর মধ্যে পার্থক্য জানুন! কে কোন লাইসেন্স পেতে পারেন, কীভাবে…