কার এয়ার ব্যাগ কীভাবে কাজ করে
কার এয়ার ব্যাগ কীভাবে কাজ করে, এর উপাদান, কার্যপ্রক্রিয়া, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং বাংলাদেশে এর প্রয়োগ। আজকে আমারা বিস্তারিত আলোচনা করবো।
বর্তমান সময়ে গাড়ির নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আমাদের সচেতনতা বেড়েছে অনেকাংশে। একটি দুর্ঘটনার সময় গাড়ির যাত্রীদের প্রাণ রক্ষার জন্য যে প্রযুক্তিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, সেটি হলো “এয়ার ব্যাগ” বা “কার এয়ার ব্যাগ”। অনেকেই জানেন না এই সিস্টেমটি কীভাবে কাজ করে, কী উপাদান এতে ব্যবহৃত হয় এবং এটি কীভাবে আমাদের রক্ষা করে। আজকের এই ব্লগে আমরা বিস্তারিতভাবে আলোচনা করব, “কার এয়ার ব্যাগ কীভাবে কাজ করে” সেই বিষয়টি নিয়ে।
এয়ার ব্যাগ হল একটি প্যাসিভ সেফটি ডিভাইস যা গাড়ির যাত্রীদের দুর্ঘটনার সময় আঘাত থেকে বাঁচানোর জন্য দ্রুত ফোলানো যায় এমন বালিশ সদৃশ বস্তুর মতো কাজ করে। এটি সাধারণত স্টিয়ারিং হুইল, ড্যাশবোর্ড, আসনের পাশ, দরজার ভিতরে বা কখনও কখনও জানালার অংশে থাকে।
১৯৫০ সালের দিকে প্রথম এয়ার ব্যাগের ধারণা আসে, কিন্তু এটি ১৯৭০ এর দশকে গাড়িতে ব্যবহার শুরু হয়। প্রথমে এটি শুধুমাত্র চালকের জন্য ছিল, পরে যাত্রীদের জন্যও চালু হয়। বর্তমানে অধিকাংশ গাড়িতে মাল্টি-পয়েন্ট এয়ার ব্যাগ সিস্টেম থাকে।
একটি এয়ার ব্যাগ সিস্টেমে মূলত চারটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান থাকে:
একটি গাড়ি দুর্ঘটনায় পড়লে নিম্নলিখিত ধাপে এয়ার ব্যাগ সিস্টেম কাজ করে:
ধাপ ১: সংঘর্ষ শনাক্তকরণ: গাড়ির বিভিন্ন স্থানে থাকা সেন্সর গাড়ির হঠাৎ গতি পরিবর্তন শনাক্ত করে। যখন একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ শক্তির সাথে সংঘর্ষ ঘটে, তখন সেন্সর একটি সংকেত পাঠায় ECU-তে।
ধাপ ২: সংকেত বিশ্লেষণ: ECU বিশ্লেষণ করে সংঘর্ষের তীব্রতা এবং সিদ্ধান্ত নেয় যে এয়ার ব্যাগ খুলবে কি না। যদি সংঘর্ষের শক্তি নির্দিষ্ট মাত্রার বেশি হয়, তাহলে এটি ইনফ্লেটরকে সক্রিয় করে।
ধাপ ৩: গ্যাস উৎপাদন: ইনফ্লেটর তখন সোডিয়াম অ্যাজাইড বা অন্যান্য রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে নাইট্রোজেন গ্যাস তৈরি করে। এই গ্যাসই এয়ার ব্যাগ কুশনে প্রবেশ করে এবং তা এক সেকেন্ডেরও কম সময়ে ফুলে যায়।
ধাপ ৪: যাত্রীদের সুরক্ষা: ফুলে ওঠা এয়ার ব্যাগ যাত্রীর শরীরকে স্টিয়ারিং হুইল, ড্যাশবোর্ড বা জানালার সাথে সংঘর্ষ থেকে রক্ষা করে। এটি মুখ, মাথা, ঘাড় এবং বুকের আঘাত হ্রাস করে।
ধাপ ৫: গ্যাস নির্গমন ও শিথিলতা: সংঘর্ষের পরে এয়ার ব্যাগে ছোট ছোট ছিদ্র দিয়ে গ্যাস নির্গত হয় এবং এটি আবার সংকুচিত হয়, যাতে যাত্রী সহজে নড়াচড়া করতে পারেন।
বর্তমানে বাজারে বিভিন্ন ধরনের এয়ার ব্যাগ পাওয়া যায়। যেমন:
অনেকে মনে করেন শুধুমাত্র এয়ার ব্যাগ থাকলেই যথেষ্ট। কিন্তু বাস্তবে এয়ার ব্যাগ ও সিট বেল্ট একে অপরের পরিপূরক। যদি যাত্রী সিট বেল্ট না বাঁধে, তাহলে এয়ার ব্যাগ কখনও কখনও আঘাত আরও বাড়াতে পারে। সিট বেল্ট শরীরের গতি সীমিত করে এবং এয়ার ব্যাগ মূল রক্ষা প্রদান করে।
বাংলাদেশে এখনও অনেক গাড়িতে এয়ার ব্যাগ ব্যবহৃত হয় না। পুরনো বা রিকন্ডিশন্ড গাড়িগুলোতে এয়ার ব্যাগ সচল থাকে না অথবা ইচ্ছাকৃতভাবে নিষ্ক্রিয় করা থাকে। নতুন গাড়িতে অবশ্যই এয়ার ব্যাগ থাকা উচিত এবং তা কার্যকর অবস্থায় রাখতে হবে।
বর্তমানে স্মার্ট এয়ার ব্যাগ প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা চলছে, যেখানে সেন্সর যাত্রীর ওজন, আসনের অবস্থান ও গাড়ির গতির উপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নেবে এয়ার ব্যাগ কখন এবং কিভাবে খুলবে। এটি দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও কমাবে।
প্রশ্ন ১: এয়ার ব্যাগ কি প্রতিটি দুর্ঘটনায় খুলে যায়? উত্তর: না, শুধুমাত্র গুরুতর সংঘর্ষে যেখানে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ শক্তি প্রয়োগ হয়, তখনই এয়ার ব্যাগ সক্রিয় হয়।
প্রশ্ন ২: এয়ার ব্যাগ ব্যবহারের পর পুনরায় ব্যবহার করা যায় কি? উত্তর: না, এয়ার ব্যাগ একবার খুললে তা প্রতিস্থাপন করতে হয়। এটি পুনরায় ব্যবহারযোগ্য নয়।
প্রশ্ন ৩: শিশুদের জন্য কি এয়ার ব্যাগ বিপদজনক? উত্তর: হ্যাঁ, শিশুরা যদি সামনের সিটে থাকে এবং এয়ার ব্যাগ খোলে, তাহলে এটি বিপজ্জনক হতে পারে। শিশুদের পিছনের আসনে বসানো উচিত।
প্রশ্ন ৪: গাড়িতে কত ধরনের এয়ার ব্যাগ থাকতে পারে? উত্তর: গাড়িতে সাধারণত ২ থেকে ১০টি পর্যন্ত এয়ার ব্যাগ থাকতে পারে, যার মধ্যে ফ্রন্টাল, সাইড, কার্টেন, নীট এবং সেন্টার এয়ার ব্যাগ অন্তর্ভুক্ত।
প্রশ্ন ৫: এয়ার ব্যাগ কত বছর পর্যন্ত কার্যকর থাকে? উত্তর: বেশিরভাগ গাড়ি নির্মাতা কোম্পানি ১০ বছর পর্যন্ত এয়ার ব্যাগ কার্যকর থাকার নিশ্চয়তা দেয়, তবে এটি নিয়মিত পরীক্ষা করা উচিত।
এয়ার ব্যাগ শুধু একটি প্রযুক্তি নয়, এটি জীবন বাঁচানোর একটি উপায়। কার এয়ার ব্যাগ কীভাবে কাজ করে তা জানা আমাদের সকলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এটি সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যবহারের মাধ্যমে আমরা নিজেদের এবং প্রিয়জনদের দুর্ঘটনার সময় নিরাপদ রাখতে পারি। এয়ার ব্যাগ এবং সিট বেল্ট একত্রে গাড়ি চালানোর সময় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।
আরও তথ্য পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ফলো করুন: আর.এস. ড্রাইভিং ট্রেনিং সেন্টার- ২
২০২৬ সালের বিআরটিএ ড্রাইভিং লাইসেন্স লিখিত পরীক্ষার প্রশ্ন ও উত্তর এবং সর্বশেষ নিয়ম জানুন এখানে।…
২০২৬ সালে ড্রাইভিং লাইসেন্স চেক করার নিয়ম কি বদলেছে? ঘরে বসে অনলাইনে, অ্যাপ বা এসএমএসের…
Discover the Top 5 Best Car Selling Website in Bangladesh. Get the latest new &…
শরিফ ওসমান হাদি আর নেই | ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হয়ে সিঙ্গাপুরে…
গাড়ির ব্যাটারি ফুলে যাওয়া একটি গুরুতর সমস্যা যা অগ্নিকাণ্ড, বিষাক্ত রাসায়নিক নির্গমন এবং গাড়ির ক্ষতির…
গাড়ির ব্যাটারি ফুলে যাওয়া প্রতিরোধে জরুরি সতর্কতা ও রক্ষণাবেক্ষণ পরামর্শ, গাড়ির ব্যাটারি ফুলে যাওয়া একটি…
View Comments