নতুন চালকদের জন্য ১৫টি গুরুত্বপূর্ণ ড্রাইভিং টিপস: নিরাপদে গাড়ি চালানোর গাইড

১ ক্লিকে ড্রাইভিং লাইসেন্স ডাউনলোড করুন

সার্চবারে লিখুন Driving, কন্টেন্টি মনযোগ সহকারে পড়ুন। পরবর্তী ধাপ অনুসরন করুন।

প্রথমবার গাড়ি চালানোর অভিজ্ঞতা অনেকের কাছেই আনন্দের, আবার একই সঙ্গে কিছুটা ভয় ও দুশ্চিন্তারও। নতুন চালক হিসেবে রাস্তার প্রতিটি পরিস্থিতি আগে থেকে বোঝা সহজ নয়। ভয় বা অস্বস্তি কাটাতে ড্রাইভিং আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর উপায় সম্পর্কেও জানতে পারেন। সামনে হঠাৎ রিকশা চলে আসা, পাশ থেকে মোটরসাইকেল এগিয়ে যাওয়া, বৃষ্টিতে ব্রেকের দূরত্ব বেড়ে যাওয়া কিংবা পার্কিংয়ের সময় জায়গা বুঝতে না পারা, এসব বাস্তব পরিস্থিতিতে শান্ত থাকা এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়াই নিরাপদ চালকের পরিচয়।

এই গাইডে বাংলাদেশের রাস্তার বাস্তবতা মাথায় রেখে নতুন চালকদের জন্য ১৫টি ব্যবহারিক ড্রাইভিং পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। শুধু কী করতে হবে তা নয়, কেন করতে হবে এবং কীভাবে অভ্যাসে পরিণত করবেন, সেটিও ব্যাখ্যা করা হয়েছে। মনে রাখবেন, লাইসেন্স পাওয়া শেখার শেষ নয়; নিরাপদে গাড়ি চালানো শেখার শুরু।

নতুন চালকদের জন্য নিরাপদে গাড়ি চালানোর ১৫টি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ
নতুন চালকদের জন্য নিরাপদে গাড়ি চালানোর ১৫টি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ

নতুন চালকদের জন্য ১৫টি গুরুত্বপূর্ণ ড্রাইভিং টিপস

১. গাড়ি চালানোর আগে নিজের প্রস্তুতি নিশ্চিত করুন

গাড়িতে বসেই ইঞ্জিন চালু করবেন না। প্রথমে সিট এমনভাবে ঠিক করুন যেন ব্রেক ও অ্যাক্সিলারেটর পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। সিটবেল্ট বাঁধুন, স্টিয়ারিং ধরার অবস্থান ঠিক করুন এবং সব আয়না এমনভাবে সেট করুন যাতে পেছনের ও পাশের রাস্তা যতটা সম্ভব দেখা যায়। দরজা ঠিকমতো বন্ধ হয়েছে কি না এবং যাত্রীরা সিটবেল্ট পরেছেন কি না নিশ্চিত করুন।

একটি ছোট অভ্যাস গড়ে তুলুন: গাড়ি চালু করার আগে কয়েক সেকেন্ড সময় নিয়ে চারপাশ দেখে নিন। এই সময়টুকু অনেক অনাকাঙ্ক্ষিত ঝুঁকি কমাতে পারে।

২. প্রতিবার যাত্রার আগে গাড়ির বেসিক চেক করুন

গাড়ি ঠিক আছে ধরে নিয়ে রাস্তায় বের হবেন না। টায়ারে বাতাস কম কি না, টায়ারে কাটা বা ফুলে ওঠা অংশ আছে কি না, ব্রেক স্বাভাবিক কাজ করছে কি না, হেডলাইট, ব্রেক লাইট, ইন্ডিকেটর ও হর্ন সচল কি না দেখে নিন। দীর্ঘ যাত্রার আগে ইঞ্জিন অয়েল, কুল্যান্ট এবং উইন্ডস্ক্রিন ওয়াশারের মাত্রাও পরীক্ষা করুন।

গাড়ির নিচে অস্বাভাবিক তরল পড়তে দেখলে বা ড্যাশবোর্ডে সতর্কবার্তা জ্বললে বিষয়টি অবহেলা করবেন না। সমস্যা বুঝতে না পারলে অভিজ্ঞ মেকানিকের পরামর্শ নিন।

n

নতুন গাড়ি বা নিজের গাড়ির প্রাথমিক প্রস্তুতি সম্পর্কে আরও জানতে নতুন গাড়ি চালকদের প্রথম করণীয় ও প্রস্তুতি গাইডটি পড়ুন।

৩. গাড়ি চালানোর সময় ফোন থেকে সম্পূর্ণ মনোযোগ সরিয়ে রাখুন

একটি মেসেজ পড়া বা কল ধরার জন্য কয়েক সেকেন্ড চোখ রাস্তা থেকে সরালেই গাড়ি অনেকটা পথ অতিক্রম করে। তাই গাড়ি চলার সময় হাতে ফোন নেবেন না, মেসেজ লিখবেন না এবং নেভিগেশন সেটিংস পরিবর্তন করবেন না। প্রয়োজন হলে নিরাপদ জায়গায় গাড়ি থামিয়ে তারপর ফোন ব্যবহার করুন। যাত্রার আগে গন্তব্য ও রুট ঠিক করে নিলে মাঝপথে বিভ্রান্তি কম হয়।

৪. রাস্তা ও আবহাওয়া বুঝে গতি নিয়ন্ত্রণ করুন

শুধু সাইনবোর্ডে লেখা গতিসীমা দেখলেই যথেষ্ট নয়। রাস্তা ফাঁকা, ভেজা, ভাঙা, বাঁকযুক্ত নাকি সামনে স্কুল বা বাজার আছে, সেটিও বিবেচনা করুন। বৃষ্টি, কুয়াশা, অন্ধকার বা ঘন যানবাহনের মধ্যে নিরাপদ গতি আরও কম হতে পারে। গন্তব্যে কয়েক মিনিট আগে পৌঁছানোর জন্য ঝুঁকি নেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই।

বাংলাদেশে একই সড়কে বাস, ট্রাক, মোটরসাইকেল, রিকশা, সাইকেল ও পথচারী চলাচল করতে পারে। তাই গতি এমন রাখুন যাতে সামনে অপ্রত্যাশিত কিছু ঘটলে নিয়ন্ত্রণ রেখে থামতে পারেন।

৫. সামনের গাড়ির সঙ্গে পর্যাপ্ত দূরত্ব রাখুন

সামনের গাড়ির খুব কাছে চললে হঠাৎ ব্রেক করার সময় পাওয়া যায় না। স্বাভাবিক অবস্থায় অন্তত তিন সেকেন্ডের অনুসরণ দূরত্বকে একটি প্রাথমিক নির্দেশনা হিসেবে ধরতে পারেন। সামনের গাড়ি কোনো নির্দিষ্ট পয়েন্ট পার হওয়ার পর আপনি সেই পয়েন্টে পৌঁছাতে কত সময় নিচ্ছেন, তা গুনে দেখুন। বৃষ্টি, কুয়াশা, অন্ধকার, ভারী যান বা পিচ্ছিল রাস্তায় দূরত্ব আরও বাড়ান।

সামনের গাড়ি হঠাৎ থামলে আপনার গাড়িরও নিরাপদে থামার জায়গা থাকা দরকার। শুধু ব্রেকের ওপর নির্ভর না করে আগে থেকেই দূরত্ব বজায় রাখুন।

৬. আয়না দেখুন, তারপর অন্ধ জায়গা পরীক্ষা করুন

লেন পরিবর্তন, মোড় নেওয়া বা রাস্তার পাশে থামার আগে রিয়ারভিউ ও সাইড মিরর দেখুন। তবে আয়নায় সবসময় পাশের গাড়ি বা মোটরসাইকেল দেখা যায় না। একে ব্লাইন্ড স্পট বা অদৃশ্য অঞ্চল বলা হয়। প্রয়োজন হলে নিরাপদভাবে কাঁধের ওপর দিয়ে দ্রুত পাশের অবস্থান দেখে নিন।

এরপর ইন্ডিকেটর দিন এবং পর্যাপ্ত ফাঁকা জায়গা নিশ্চিত হলে ধীরে লেন পরিবর্তন করুন। ইন্ডিকেটর দেওয়া মানে অন্য চালক আপনাকে জায়গা দিতে বাধ্য, এমন নয়।

৭. ইন্ডিকেটর ও ট্রাফিক সিগন্যাল সঠিকভাবে ব্যবহার করুন

মোড় নেওয়া বা লেন পরিবর্তনের আগে যথাসময়ে ইন্ডিকেটর দিন। হঠাৎ স্টিয়ারিং ঘুরিয়ে অন্য লেনে চলে যাবেন না। ট্রাফিক সিগন্যাল, রাস্তার চিহ্ন, লেন মার্কিং এবং ট্রাফিক পুলিশের নির্দেশনা মেনে চলুন। সিগন্যাল সবুজ হলেও সামনে রাস্তা আটকে থাকলে এমনভাবে প্রবেশ করবেন না যাতে মোড় বা ক্রসিং বন্ধ হয়ে যায়।

ট্রাফিক সাইনগুলোর অর্থ আগে থেকে শিখে রাখুন। আমাদের ট্রাফিক সাইন বোঝার সহজ গাইড দেখে নিতে পারেন।

৮. পথচারী, শিশু ও দুর্বল সড়ক ব্যবহারকারীদের অগ্রাধিকার দিন

স্কুল, হাসপাতাল, বাজার, বাসস্ট্যান্ড ও আবাসিক এলাকার কাছে গতি কমিয়ে দিন। পার্ক করা গাড়ির আড়াল থেকে শিশু বা পথচারী বেরিয়ে আসতে পারেন। রিকশা বা সাইকেল পাশ কাটানোর সময় যথেষ্ট জায়গা রাখুন। হর্ন দিয়ে কাউকে ভয় দেখিয়ে রাস্তা ছাড়াতে যাবেন না। নিরাপদ দূরত্ব ও ধৈর্য বজায় রাখুন।

৯. বৃষ্টির দিনে ব্রেক ও স্টিয়ারিংয়ে বাড়তি সতর্ক থাকুন

বৃষ্টিতে রাস্তা পিচ্ছিল হয় এবং টায়ারের গ্রিপ কমে যেতে পারে। তাই গতি কমান, সামনের গাড়ির সঙ্গে দূরত্ব বাড়ান এবং হঠাৎ ব্রেক বা স্টিয়ারিং ঘোরানো এড়িয়ে চলুন। জমে থাকা পানির গভীরতা বোঝা না গেলে দ্রুত গাড়ি নিয়ে পার হওয়ার চেষ্টা করবেন না। পানির নিচে গর্ত বা রাস্তার ক্ষতি থাকতে পারে।

উইন্ডস্ক্রিন পরিষ্কার রাখুন, ওয়াইপার ঠিক আছে কি না দেখুন এবং দৃশ্যমানতা কমে গেলে নিরাপদ স্থানে থামার কথা বিবেচনা করুন।

১০. ক্লান্ত বা ঘুমঘুম অবস্থায় গাড়ি চালাবেন না

বারবার হাই তোলা, চোখ ভারী হয়ে আসা, রাস্তার দিকে মনোযোগ ধরে রাখতে না পারা বা আগের কয়েক মিনিটের ঘটনা মনে করতে কষ্ট হওয়া ক্লান্তির লক্ষণ। এমন অবস্থায় গাড়ি চালানো বিপজ্জনক। যাত্রার আগে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন। পথে ক্লান্ত লাগলে নিরাপদ স্থানে গাড়ি থামিয়ে বিশ্রাম নিন। জানালা খুলে বা জোরে গান বাজিয়ে ঘুম কাটানোর চেষ্টা নির্ভরযোগ্য সমাধান নয়।

১১. ওভারটেক করার আগে ঝুঁকি যাচাই করুন

শুধু সামনে ধীরগতির গাড়ি দেখেই ওভারটেক করবেন না। সামনে পর্যাপ্ত দৃশ্যমান রাস্তা আছে কি না, বিপরীত দিক থেকে যান আসছে কি না, রাস্তার চিহ্ন ও আইন ওভারটেকের অনুমতি দেয় কি না এবং আপনার গাড়ির পর্যাপ্ত গতি ও জায়গা আছে কি না নিশ্চিত করুন। বাঁক, উঁচু-নিচু রাস্তা, মোড়, ক্রসিং বা সীমিত দৃশ্যমানতার জায়গায় ওভারটেক করা থেকে বিরত থাকুন। সন্দেহ হলে অপেক্ষা করাই নিরাপদ সিদ্ধান্ত।

১২. পার্কিংয়ের সময় ধীরে কাজ করুন

পার্কিংয়ের আগে জায়গাটি যথেষ্ট বড় কি না দেখুন। চারপাশে পথচারী, শিশু, মোটরসাইকেল বা নিচু কোনো বাধা আছে কি না পরীক্ষা করুন। প্রয়োজনে জানালা নামিয়ে বা গাড়ি থেকে নেমে জায়গা দেখে নিন। ধীরে রিভার্স করুন এবং আয়না ও ক্যামেরার ওপর এককভাবে নির্ভর করবেন না। গাড়ি থামানোর পর পার্কিং ব্রেক ব্যবহার করুন এবং গাড়ি নিরাপদ অবস্থায় আছে নিশ্চিত করুন।

আরও বিস্তারিত জানতে পড়ুন গাড়ি পার্কিং করার সহজ নিয়ম।

১৩. রাগ, তাড়া বা অন্য চালকের উসকানিতে সিদ্ধান্ত নেবেন না

কেউ হর্ন দিল, পাশ কাটিয়ে গেল বা ভুলভাবে গাড়ি চালাল, তাই বলে প্রতিযোগিতায় নামবেন না। গতি বাড়িয়ে ধাওয়া করা, খুব কাছে গিয়ে চাপ দেওয়া বা রাস্তায় তর্কে জড়ানো দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ায়। নিজের লেন ও নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখুন। ভুল হলে শান্তভাবে জায়গা দিন এবং প্রয়োজন হলে নিরাপদ স্থানে থামুন।

১৪. জরুরি পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকুন

গাড়িতে প্রাথমিক চিকিৎসার সরঞ্জাম, সতর্কীকরণ ত্রিভুজ, টর্চ, প্রয়োজনীয় যোগাযোগ নম্বর এবং গাড়ির কাগজপত্র রাখুন। টায়ার পাংচার, ইঞ্জিন অতিরিক্ত গরম হওয়া বা গাড়ি বিকল হলে চলন্ত লেনে দাঁড়িয়ে মেরামতের চেষ্টা করবেন না। সম্ভব হলে নিরাপদ পাশে গাড়ি থামান, হ্যাজার্ড লাইট জ্বালান এবং যাত্রীদের নিরাপদ স্থানে রাখুন।

দুর্ঘটনা ঘটলে আগে নিজের ও অন্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন। আহত ব্যক্তিকে অপ্রয়োজনে নাড়াচাড়া না করে জরুরি সহায়তা নিন।

১৫. নিয়মিত অনুশীলন করুন এবং ট্রাফিক আইন জানুন

নতুন চালক হিসেবে একদিনে সব পরিস্থিতি আয়ত্ত করা সম্ভব নয়। অভিজ্ঞ ও দায়িত্বশীল প্রশিক্ষকের তত্ত্বাবধানে নিরাপদ জায়গায় অনুশীলন করুন। শুরুতে কম ব্যস্ত রাস্তা বেছে নিন। পরে ধীরে ধীরে পার্কিং, মোড় নেওয়া, লেন পরিবর্তন, ঢালু রাস্তা এবং ব্যস্ত ট্রাফিকের মতো দক্ষতা অনুশীলন করুন। প্রতিবার অনুশীলনের পর কোন জায়গায় ভুল হয়েছে তা লিখে রাখুন। নতুনরা দ্রুত ও নিরাপদে ড্রাইভিং শেখার ধাপ এবং প্রথম ৩০ দিনের ড্রাইভিং চেকলিস্ট অনুসরণ করে অনুশীলনের পরিকল্পনা করতে পারেন।

বাংলাদেশে ড্রাইভিং লাইসেন্স, সড়ক পরিবহন আইন ও ট্রাফিক বিধি সম্পর্কে জানতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (BRTA) সরকারি ওয়েবসাইট এবং সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ দেখুন। লাইসেন্সের আবেদন ও নিয়ম সম্পর্কে আমাদের বাংলাদেশে ড্রাইভিং লাইসেন্সের নিয়ম ও আবেদন গাইড পড়তে পারেন।

নতুন চালকদের জন্য ৫ মিনিটের প্রি-ড্রাইভ চেকলিস্ট

  • সিট, স্টিয়ারিং ও আয়না ঠিকভাবে সেট করা হয়েছে
  • নিজে এবং সব যাত্রী সিটবেল্ট পরেছেন
  • টায়ার, ব্রেক লাইট, হেডলাইট ও ইন্ডিকেটর পরীক্ষা করা হয়েছে
  • ড্যাশবোর্ডে কোনো অস্বাভাবিক সতর্কবার্তা নেই
  • ফোন সাইলেন্ট বা নিরাপদ স্থানে রাখা হয়েছে এবং রুট আগে ঠিক করা হয়েছে
  • সামনে ও পেছনে নিরাপদে বের হওয়ার জায়গা আছে

নতুন চালকদের সাধারণ ভুল, যেগুলো এড়িয়ে চলবেন

নতুন চালকদের একটি সাধারণ ভুল হলো গাড়ি নিয়ন্ত্রণে আত্মবিশ্বাস তৈরি হওয়ার আগেই ব্যস্ত রাস্তায় একা বেরিয়ে পড়া। কেউ কেউ আবার শুধু সামনের দিকে তাকান, আয়না ব্যবহার করেন না, ইন্ডিকেটর দিতে ভুলে যান অথবা পার্কিংয়ের সময় তাড়াহুড়া করেন। এসব ভুল সংশোধনের সবচেয়ে ভালো উপায় হলো ধাপে ধাপে অনুশীলন, প্রশিক্ষকের পরামর্শ এবং নিজের ভুল স্বীকার করে শেখা। চালকের দৈনন্দিন অভ্যাস উন্নত করতে পেশাদারদের পরামর্শে নতুন চালকের জরুরি অভ্যাস গাইডটি সহায়ক হতে পারে।

আরও পড়ুন: নতুন ড্রাইভারদের ৫টি সাধারণ ভুল ও সমাধান এবং নতুন চালকদের ১৩টি গুরুত্বপূর্ণ ড্রাইভিং টিপস।

প্রশ্ন ও উত্তর

নতুন চালকদের প্রথমে কোথায় গাড়ি চালানোর অনুশীলন করা উচিত?

প্রথমে প্রশিক্ষকের তত্ত্বাবধানে নিরাপদ, খোলা ও কম যানবাহন চলাচল করে এমন জায়গায় অনুশীলন করুন। গাড়ির নিয়ন্ত্রণ ভালোভাবে আয়ত্ত করার পর ধীরে ধীরে বাস্তব সড়কের পরিস্থিতির সঙ্গে পরিচিত হোন।

নতুন চালকদের জন্য নিরাপদ অনুসরণ দূরত্ব কত?

স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে অন্তত তিন সেকেন্ডের দূরত্ব একটি প্রাথমিক নির্দেশনা। বৃষ্টি, কুয়াশা, অন্ধকার, ভারী যান বা পিচ্ছিল রাস্তায় আরও বেশি দূরত্ব রাখুন।

গাড়ি চালানোর সময় ফোন ব্যবহার করা কি নিরাপদ?

না। গাড়ি চলার সময় হাতে ফোন ব্যবহার করলে মনোযোগ রাস্তা থেকে সরে যায়। কল বা মেসেজের প্রয়োজন হলে নিরাপদ স্থানে গাড়ি থামিয়ে নিন।

বৃষ্টির মধ্যে নতুন চালকদের কীভাবে গাড়ি চালানো উচিত?

গতি কমিয়ে, সামনের গাড়ির সঙ্গে দূরত্ব বাড়িয়ে এবং হঠাৎ ব্রেক বা স্টিয়ারিং ঘোরানো এড়িয়ে চলুন। দৃশ্যমানতা খুব কমে গেলে নিরাপদ জায়গায় থামুন।

ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার পরও কি অনুশীলন প্রয়োজন?

অবশ্যই। লাইসেন্স থাকলেও বাস্তব সড়কের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা বাড়াতে নিয়মিত নিরাপদ অনুশীলন প্রয়োজন। নিজের দক্ষতার সীমা বুঝে ধাপে ধাপে নতুন পরিস্থিতিতে অভ্যস্ত হোন।

শেষ কথা: নিরাপদ চালক হওয়ার শুরু আজ থেকেই

ভালো চালক হওয়া মানে দ্রুত গাড়ি চালানো নয়; বরং নিজের, যাত্রীদের এবং রাস্তার অন্য সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করে দায়িত্বশীলভাবে গন্তব্যে পৌঁছানো। শুরুতে ভুল হতে পারে, ভয়ও লাগতে পারে। কিন্তু ধৈর্য, নিয়মিত অনুশীলন এবং ট্রাফিক আইন মেনে চলার অভ্যাস আপনাকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে।

এই ১৫টি পরামর্শের মধ্যে প্রতিদিন অন্তত কয়েকটি বিষয় সচেতনভাবে অনুশীলন করুন। মনে রাখবেন, রাস্তায় নিরাপদে পৌঁছানোই সবচেয়ে বড় সাফল্য। আরও কিছু বাস্তব অনুশীলন ও নিরাপদ অভ্যাসের জন্য নতুন চালকদের বাস্তব ড্রাইভিং পরামর্শ এবং নিরাপদ ড্রাইভিংয়ের ৭টি জরুরি অভ্যাস পড়তে পারেন।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (BRTA) | সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ | বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা: Road traffic injuries

আর. এস ড্রাইভিং ট্রেনিং সেন্টার ২ || দক্ষ ড্রাইভার তৈরিতে আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। মোবাইলঃ ০১৬৭৫-৫৬৫ ২২২ অফিস ঠিকানাঃ হাউজ-১৫৪/এ, রোড-০২, ব্লক-এ, সেকশন-১২, পল্লবী মিরপুর ঢাকা-১২১৬।

Sharing Is Caring:

Leave a Comment