১ ক্লিকে ড্রাইভিং লাইসেন্স ডাউনলোড করুন
সার্চবারে লিখুন Driving, কন্টেন্টি মনযোগ সহকারে পড়ুন। পরবর্তী ধাপ অনুসরন করুন।
২০২৬ সালের বিআরটিএ ড্রাইভিং লাইসেন্স লিখিত পরীক্ষার প্রশ্ন ও উত্তর এবং সর্বশেষ নিয়ম জানুন এখানে। ১০০০ শব্দের এই কমপ্লিট গাইডটি আপনার লাইসেন্স পাওয়া সহজ করবে।
ড্রাইভিং লাইসেন্স লিখিত পরীক্ষার প্রশ্ন ও উত্তর: ২০২৬ সালের কমপ্লিট গাইড
একটি ড্রাইভিং লাইসেন্স আপনার স্বাধীনভাবে পথ চলার চাবিকাঠি, কিন্তু লিখিত পরীক্ষার ভয় অনেককেই পিছিয়ে দেয়। আপনি কি জানেন, বিআরটিএ-র নতুন নিয়মে মাত্র ৭ দিনেই পরীক্ষায় বসা সম্ভব এবং প্রশ্নগুলো এখন অনেক বেশি সহজ ও বাস্তবসম্মত?
সড়ক পরিবহন আইন এবং ট্রাফিক চিহ্নের সঠিক জ্ঞান না থাকলে পরীক্ষায় পাস করা বেশ কঠিন। এই আর্টিকেলে আমরা ২০২৬ সালের সর্বশেষ সিলেবাস অনুযায়ী লিখিত পরীক্ষার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তরগুলো তুলে ধরব।
১. বিআরটিএ ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষার বর্তমান নিয়ম ২০২৬
২০২৬ সালে বিআরটিএ তাদের পরীক্ষা পদ্ধতিতে বড় ধরনের ডিজিটাল পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। এখন আবেদন থেকে শুরু করে পরীক্ষার রেজাল্ট পর্যন্ত সবকিছুই স্মার্টফোনে ট্র্যাক করা যায়।
বর্তমানে লার্নার বা শিক্ষানবিশ লাইসেন্স পাওয়ার পর খুব দ্রুততম সময়ে লিখিত, ভাইভা ও ফিল্ড টেস্ট (থ্রি-ইন-ওয়ান) নেওয়া হচ্ছে। অর্থাৎ এক দিনেই আপনার সব পরীক্ষা শেষ হয়ে যাবে।
লিখিত পরীক্ষায় সাধারণত ২০টি প্রশ্ন থাকে এবং এর জন্য আপনি সময় পাবেন ২০ মিনিট। প্রতিটি প্রশ্নের মান ১ নম্বর এবং পাস করার জন্য আপনাকে অন্তত ১২-১৫ নম্বর পেতে হবে।
২. সড়ক পরিবহন আইন ও সাধারণ জ্ঞান সংক্রান্ত প্রশ্ন
ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষায় সড়ক আইন থেকে সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন আসে। নিচে গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রশ্ন ও উত্তর দেওয়া হলো:
- প্রশ্ন: ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালালে শাস্তি কী? উত্তর: সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ অনুযায়ী, ৬ মাসের জেল অথবা ২৫ হাজার টাকা জরিমানা (বা উভয় দণ্ড)।
- প্রশ্ন: লাল বৃত্তের ভেতর ‘৫০’ লেখা থাকলে তার অর্থ কী? উত্তর: সর্বোচ্চ গতিসীমা ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার।
- প্রশ্ন: ফিটনেস বিহীন গাড়ি চালালে দণ্ড কী? উত্তর: ৬ মাসের জেল অথবা ২৫ হাজার টাকা জরিমানা।
- প্রশ্ন: উল্টো পথে গাড়ি চালালে জরিমানা কত? উত্তর: অনধিক ১০ হাজার টাকা জরিমানা।
৩. ট্রাফিক চিহ্ন ও সংকেত পরিচিতি
রাস্তায় নিরাপদ ড্রাইভিংয়ের জন্য ট্রাফিক চিহ্ন বোঝা বাধ্যতামূলক। এগুলো মূলত তিন প্রকারের হয়ে থাকে।
বাধ্যতামূলক চিহ্ন (Mandatory Signs)
এই চিহ্নগুলো সাধারণত বৃত্তাকার হয়। যেমন: ‘প্রবেশ নিষেধ’, ‘একমুখী রাস্তা’, বা ‘হর্ন বাজানো নিষেধ’। এই নিয়ম অমান্য করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।
সতর্কতামূলক চিহ্ন (Cautionary Signs)
এগুলো সাধারণত ত্রিভুজ আকৃতির হয়। এই চিহ্নগুলো চালককে সামনের বিপদ সম্পর্কে আগেভাগে সতর্ক করে দেয়। যেমন: ‘সামনে স্কুল’, ‘পিচ্ছিল রাস্তা’ বা ‘বাঁক আছে’।
তথ্যমূলক চিহ্ন (Informative Signs)
এগুলো চতুর্ভুজ বা আয়তকার হয়। এগুলো চালককে বিভিন্ন তথ্য দেয়। যেমন: ‘হাসপাতাল’, ‘পেট্রোল পাম্প’ বা ‘পার্কিং স্থান’।
৪. ইঞ্জিন ও মেকানিক্যাল বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন
গাড়ি চালানোর পাশাপাশি এর সাধারণ কারিগরি জ্ঞান থাকা জরুরি। পরীক্ষায় এখান থেকে ৩-৪টি প্রশ্ন আসে।
- প্রশ্ন: ইঞ্জিনে মবিলের কাজ কী? উত্তর: ইঞ্জিনের ঘূর্ণায়মান যন্ত্রাংশকে পিচ্ছিল করা এবং ক্ষয়রোধ করা।
- প্রশ্ন: গাড়ির ব্যাটারিতে কোন পানি ব্যবহার করা হয়? উত্তর: ডিস্টিলড ওয়াটার (Distilled Water)।
- প্রশ্ন: চলন্ত অবস্থায় টায়ার বার্স্ট হলে চালকের করণীয় কী? উত্তর: এক্সিলারেটর থেকে পা সরিয়ে নেওয়া এবং শক্ত হাতে স্টিয়ারিং ধরে ব্রেক না চেপে গাড়ি নিয়ন্ত্রণে আনা।
- প্রশ্ন: রেডিয়েটরের কাজ কী? উত্তর: ইঞ্জিনের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা বা ইঞ্জিনকে ঠান্ডা রাখা।
৫. ট্রাফিক সিগন্যাল ও রাস্তার মার্কিং
রাস্তায় সাদা বা হলুদ রঙের দাগ দেখে অনেক কিছু বোঝা যায়। লিখিত পরীক্ষায় এগুলো থেকেও প্রশ্ন আসে।
- ভাঙা সাদা দাগ: এই দাগ থাকলে আপনি সাবধানে লেন পরিবর্তন করতে পারবেন।
- অবিচ্ছিন্ন একক সাদা দাগ: এই দাগ থাকলে লেন পরিবর্তন করা বা ওভারটেকিং করা নিষেধ।
- জেব্রা ক্রসিং: পথচারীদের রাস্তা পার হওয়ার জন্য নির্ধারিত স্থান। এখানে চালককে অবশ্যই গাড়ি থামাতে বা গতি কমাতে হবে।
৬. ড্রাইভিং পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়ার সেরা উপায়
লিখিত পরীক্ষায় পাস করার জন্য আপনার প্রস্তুতি হতে হবে গোছানো। নিচে কিছু কার্যকরী টিপস দেওয়া হলো:
- বিআরটিএ নির্দেশিকা পড়ুন: বিআরটিএ থেকে দেওয়া ট্রাফিক সাইন সম্বলিত বইটি অন্তত দুবার রিডিং পড়ুন।
- মক টেস্ট দিন: ইন্টারনেটে বা বিভিন্ন অ্যাপে ড্রাইভিং লাইসেন্স মক টেস্ট পাওয়া যায়, সেগুলো প্র্যাকটিস করুন।
- চিহ্নগুলো মুখস্থ করুন: রাস্তায় চলার সময় বিভিন্ন বোর্ড ও সাইন দেখে সেগুলোর মানে বোঝার চেষ্টা করুন।
- শান্ত থাকুন: পরীক্ষার হলে প্রশ্ন বুঝে উত্তর দিন, কারণ অনেক প্রশ্ন খুব কাছাকাছি অপশনের হয়ে থাকে।
৭. আবেদনের প্রক্রিয়া ও ফি (২০২৬ আপডেট)
২০২৬ সালে বিআরটিএ-র ফি কাঠামো কিছুটা পুনর্গঠন করা হয়েছে। অপেশাদার লাইসেন্সের জন্য সব মিলিয়ে খরচ পড়বে প্রায় ৪,৪৯৭ টাকা।
অনলাইনে ‘BSP’ পোর্টালে গিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে লার্নার আবেদন করুন। এরপর নির্ধারিত ফি জমা দিয়ে আপনার পরীক্ষার তারিখ ও কেন্দ্র নির্বাচন করুন। মনে রাখবেন, এখন আর দালালের প্রয়োজন নেই, সরাসরি নিজেই আবেদন করা অনেক বেশি সহজ।
উপসংহার
ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার প্রথম ধাপ হলো লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া। সঠিক জ্ঞান থাকলে এই পরীক্ষাটি মোটেও কঠিন কিছু নয়। এটি কেবল একটি লাইসেন্স পাওয়ার পরীক্ষা নয়, বরং আপনার এবং অন্যের জীবন রক্ষার একটি আইনি প্রস্তুতি। উপরে আলোচিত প্রশ্নগুলো ভালোভাবে আয়ত্ত করলে আপনি খুব সহজেই পরীক্ষায় সফল হতে পারবেন।
আপনার কি ড্রাইভিং লাইসেন্স নিয়ে বিশেষ কোনো প্রশ্ন আছে বা লার্নার আবেদন করতে কোনো সমস্যায় পড়ছেন? আমাদের কমেন্ট করে জানান!