ড্রাইভিং লাইসেন্স লিখিত পরীক্ষার প্রশ্ন ও উত্তর: প্রস্তুতি গাইড ও মডেল টেস্ট

১ ক্লিকে ড্রাইভিং লাইসেন্স ডাউনলোড করুন

সার্চবারে লিখুন Driving, কন্টেন্টি মনযোগ সহকারে পড়ুন। পরবর্তী ধাপ অনুসরন করুন।

ড্রাইভিং লাইসেন্সের লিখিত পরীক্ষার কথা ভাবলে অনেকেরই ভয় বা দুশ্চিন্তা হয়। কোন প্রশ্ন আসবে, ট্রাফিক চিহ্ন মনে থাকবে কি না, সড়ক আইন থেকে কী জানতে চাইবে, এসব নিয়ে ভাবা স্বাভাবিক। তবে নিয়মিত অনুশীলন করলে প্রস্তুতি অনেক সহজ হয়। শুধু উত্তর মুখস্থ না করে নিয়মটির কারণ বুঝে শিখুন। কারণ রাস্তায় একটি সঠিক সিদ্ধান্ত আপনার নিজের পাশাপাশি অন্য মানুষের জীবনও নিরাপদ রাখতে পারে।

এই গাইডে বাংলাদেশের ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য সড়ক আইন, ট্রাফিক সাইন, সিগন্যাল, নিরাপদ চালনা ও গাড়ির প্রাথমিক জ্ঞানভিত্তিক প্রশ্নোত্তর এবং ১০টি নমুনা MCQ দেওয়া হয়েছে। এগুলো অনুশীলনের জন্য তৈরি, BRTA-এর হুবহু বা নিশ্চিত পরীক্ষার প্রশ্ন নয়।

প্রকাশিত: ৪ জানুয়ারি ২০২৬। সর্বশেষ হালনাগাদ: ৩১ অক্টোবর ২০২৬।

ড্রাইভিং লাইসেন্স লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতি

BRTA-এর প্রকাশিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী, লার্নার বা শিক্ষানবিশ লাইসেন্স নেওয়ার পর নির্ধারিত সময় প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে নির্ধারিত কেন্দ্রে লিখিত, মৌখিক ও ফিল্ড টেস্টে অংশ নিতে হয়। পরীক্ষার তারিখ, পদ্ধতি, প্রশ্নসংখ্যা বা সময় সম্পর্কে নিজের পরীক্ষার নোটিশ ও BRTA-এর নির্দেশনাই অনুসরণ করুন। অনলাইনে প্রচারিত নির্দিষ্ট প্রশ্নসংখ্যা বা পাস নম্বরকে সরকারি ঘোষণা ছাড়া নিশ্চিত ধরে নেবেন না। BRTA-এর ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রাপ্তির প্রক্রিয়া এবং BRTA Service Portal দেখুন।

যে বিষয়গুলো পড়বেন

  • সড়ক পরিবহন আইন ও চালকের দায়িত্ব।
  • নিয়ন্ত্রণমূলক, সতর্কতামূলক ও তথ্যসূচক ট্রাফিক চিহ্ন।
  • ট্রাফিক সিগন্যাল, রাস্তার লাইন ও জেব্রা ক্রসিং।
  • লেন পরিবর্তন, ওভারটেকিং, মোড় নেওয়া ও নিরাপদ দূরত্ব।
  • পথচারী ও অন্যান্য সড়ক ব্যবহারকারীর নিরাপত্তা।
  • ব্রেক, টায়ার, ইঞ্জিন অয়েল ও কুল্যান্টের প্রাথমিক ধারণা।
  • দুর্ঘটনা বা যান্ত্রিক সমস্যা হলে করণীয়।

সড়ক আইন ও চালকের দায়িত্ব: প্রশ্নোত্তর

প্রশ্ন ১: ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া পাবলিক রাস্তায় মোটরযান চালানো কি বৈধ?

উত্তর: না। সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ অনুযায়ী বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স বা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে শিক্ষানবিশ লাইসেন্স ছাড়া, অথবা মেয়াদোত্তীর্ণ লাইসেন্স ব্যবহার করে পাবলিক প্লেসে মোটরযান চালানো নিষিদ্ধ।

প্রশ্ন ২: লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালালে কী শাস্তি হতে পারে?

উত্তর: আইনটির ধারা ৬৬ অনুযায়ী ধারা ৪ ও ৫ লঙ্ঘনের জন্য অনধিক ছয় মাসের কারাদণ্ড, অনধিক ২৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড হতে পারে। আইনের অপরাধ ও দণ্ড অধ্যায় পড়ুন।

প্রশ্ন ৩: নিজের লাইসেন্সে অনুমোদিত নয় এমন শ্রেণির গাড়ি চালানো যাবে?

উত্তর: না। লাইসেন্সে অনুমোদিত শ্রেণি বা ক্যাটাগরির যানবাহনই চালাতে হবে।

প্রশ্ন ৪: গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার ঝুঁকিপূর্ণ কেন?

উত্তর: ফোনে কথা বলা বা স্ক্রিন দেখা মনোযোগ ও প্রতিক্রিয়ার সময় কমিয়ে দেয়। প্রয়োজন হলে নিরাপদ স্থানে গাড়ি থামিয়ে ফোন ব্যবহার করুন।

ট্রাফিক চিহ্ন ও সিগন্যাল: প্রশ্নোত্তর

প্রশ্ন ৫: লাল বাতির অর্থ কী?

উত্তর: থামুন। নির্ধারিত স্টপ লাইনের আগে গাড়ি থামাতে হবে।

প্রশ্ন ৬: হলুদ বাতি জ্বললে কী করবেন?

উত্তর: সতর্ক হোন। নিরাপদে থামা সম্ভব হলে থামুন। গতি বাড়িয়ে পার হওয়ার চেষ্টা করবেন না।

প্রশ্ন ৭: সবুজ বাতি জ্বললে কি না দেখেই এগোনো যাবে?

উত্তর: না। সামনে পথচারী বা অন্য যানবাহন আছে কি না দেখে নিরাপদ হলে এগোতে হবে।

প্রশ্ন ৮: লাল বৃত্তের মধ্যে ৫০ লেখা থাকলে কী বোঝায়?

উত্তর: সাধারণত সর্বোচ্চ গতিসীমা ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার। রাস্তার অবস্থা অনুযায়ী আরও ধীরে চালাতে হতে পারে।

প্রশ্ন ৯: প্রবেশ নিষেধ চিহ্ন দেখলে কী করবেন?

উত্তর: সেই দিক দিয়ে প্রবেশ করবেন না। বিকল্প বৈধ পথ ব্যবহার করুন।

প্রশ্ন ১০: জেব্রা ক্রসিংয়ের কাছে চালকের দায়িত্ব কী?

উত্তর: গতি কমিয়ে পথচারীকে নিরাপদে পার হওয়ার সুযোগ দিতে হবে। প্রয়োজন হলে থামুন।

প্রশ্ন ১১: ভাঙা সাদা লেন লাইন কী বোঝায়?

উত্তর: পরিস্থিতি নিরাপদ হলে লেন পরিবর্তনের সুযোগ থাকতে পারে। আয়না ও ব্লাইন্ড স্পট দেখে, ইন্ডিকেটর দিয়ে, নিরাপদ ফাঁক নিশ্চিত করে লেন বদলান।

নিরাপদ চালনা: বাস্তব পরিস্থিতির প্রশ্নোত্তর

প্রশ্ন ১২: স্কুল এলাকার চিহ্ন দেখলে কী করবেন?

উত্তর: গতি কমিয়ে সতর্ক থাকুন। শিশু হঠাৎ রাস্তা পার হতে পারে, তাই প্রয়োজন হলে থামুন।

প্রশ্ন ১৩: বৃষ্টিতে রাস্তা পিচ্ছিল হলে কীভাবে চালাবেন?

উত্তর: গতি কমান, সামনের গাড়ির সঙ্গে বেশি দূরত্ব রাখুন এবং হঠাৎ ব্রেক বা স্টিয়ারিং ঘোরানো এড়িয়ে চলুন।

প্রশ্ন ১৪: মোড় নেওয়ার আগে কী করবেন?

উত্তর: সঠিক লেনে অবস্থান নিন, আয়না দেখুন, ইন্ডিকেটর দিন, গতি কমান এবং পথচারী ও অন্য যানবাহন পর্যবেক্ষণ করুন।

প্রশ্ন ১৫: ওভারটেক করার আগে কী নিশ্চিত করবেন?

উত্তর: সামনে পর্যাপ্ত দৃশ্যমানতা, নিরাপদ জায়গা, বিপরীত দিকের যানবাহন এবং রাস্তার মার্কিং ও সাইন পরীক্ষা করুন। নিরাপদে নিজের লেনে ফেরা সম্ভব না হলে ওভারটেক করবেন না।

প্রশ্ন ১৬: টায়ার চলন্ত অবস্থায় ফেটে গেলে কী করবেন?

উত্তর: স্টিয়ারিং শক্তভাবে ধরে রাখুন, এক্সিলারেটর থেকে ধীরে পা সরান, হঠাৎ ব্রেক করবেন না। গতি কমলে নিরাপদ স্থানে থামুন।

প্রশ্ন ১৭: ব্রেক ঠিকমতো কাজ না করলে কী করবেন?

উত্তর: গাড়ি নিয়ন্ত্রণে এনে নিরাপদ স্থানে থামানোর চেষ্টা করুন। থামার পর আর চালাবেন না; দক্ষ মেকানিকের সাহায্য নিন।

প্রশ্ন ১৮: দুর্ঘটনা ঘটলে প্রথম দায়িত্ব কী?

উত্তর: নিজের ও অন্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন, পরবর্তী দুর্ঘটনা ঠেকাতে সতর্কতা নিন এবং আহত ব্যক্তির জন্য জরুরি সহায়তা ডাকুন। প্রয়োজনীয় কর্তৃপক্ষকে জানান।

গাড়ির প্রাথমিক যান্ত্রিক জ্ঞান

প্রশ্ন ১৯: ইঞ্জিন অয়েলের কাজ কী?

উত্তর: ইঞ্জিনের চলমান অংশে ঘর্ষণ ও ক্ষয় কমানো এবং তাপ অপসারণে সহায়তা করা। প্রস্তুতকারকের নির্দেশিত গ্রেড ও সময় অনুযায়ী অয়েল পরীক্ষা করুন।

প্রশ্ন ২০: কুল্যান্টের কাজ কী?

উত্তর: ইঞ্জিনের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করা। ইঞ্জিন গরম থাকা অবস্থায় রেডিয়েটরের ক্যাপ খুলবেন না।

প্রশ্ন ২১: টায়ারের বাতাস নিয়মিত পরীক্ষা জরুরি কেন?

উত্তর: সঠিক চাপ গাড়ির নিয়ন্ত্রণ, ব্রেকিং ও জ্বালানি ব্যবহারে প্রভাব ফেলে। গাড়ির ম্যানুয়াল অনুযায়ী চাপ পরীক্ষা করুন এবং টায়ারে কাটা, ফোলা বা অতিরিক্ত ক্ষয় আছে কি না দেখুন।

১০টি নমুনা বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

প্রথমে নিজে উত্তর দিন, তারপর সঠিক উত্তর মিলিয়ে নিন। এগুলো অনুশীলনী, অফিসিয়াল প্রশ্নপত্র নয়।

  1. লাল বাতি কী নির্দেশ করে? ক. চলুন খ. থামুন গ. হর্ন দিন। উত্তর: খ.
  2. জেব্রা ক্রসিং কার জন্য? ক. পার্কিং খ. পথচারী পারাপার গ. ওভারটেকিং। উত্তর: খ.
  3. ইঞ্জিন অয়েলের কাজ কী? ক. ঘর্ষণ কমানো খ. টায়ার ফোলানো গ. আলো জ্বালানো। উত্তর: ক.
  4. কুল্যান্ট কী নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে? ক. ইঞ্জিনের তাপমাত্রা খ. টায়ারের চাপ গ. হেডলাইট। উত্তর: ক.
  5. স্কুল এলাকার সাইন দেখলে কী করবেন? ক. গতি বাড়াবেন খ. গতি কমিয়ে সতর্ক থাকবেন গ. ওভারটেক করবেন। উত্তর: খ.
  6. ওভারটেকের আগে কী জরুরি? ক. নিরাপদ দৃশ্যমানতা ও জায়গা খ. শুধু হর্ন গ. ইন্ডিকেটর ছাড়া লেন বদল। উত্তর: ক.
  7. টায়ার ফেটে গেলে প্রথমে কী করবেন? ক. হঠাৎ ব্রেক খ. স্টিয়ারিং ধরে এক্সিলারেটর থেকে ধীরে পা সরানো গ. দ্রুত বাঁক নেওয়া। উত্তর: খ.
  8. সবুজ বাতি জ্বললে কী করবেন? ক. না দেখে চলুন খ. রাস্তা নিরাপদ দেখে এগোন গ. বিপরীত লেনে যান। উত্তর: খ.
  9. বৃষ্টিতে পিচ্ছিল রাস্তায় কী করবেন? ক. দূরত্ব কমাবেন খ. গতি কমিয়ে দূরত্ব বাড়াবেন গ. হঠাৎ ব্রেক করবেন। উত্তর: খ.
  10. ব্রেক ত্রুটিপূর্ণ হলে কী করবেন? ক. চালিয়ে যাবেন খ. নিরাপদে থামিয়ে মেরামত করবেন গ. গতি বাড়াবেন। উত্তর: খ.

পরীক্ষার আগের দিনের প্রস্তুতি

  • পরীক্ষার তারিখ, কেন্দ্র ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিশ্চিত করুন।
  • ট্রাফিক চিহ্ন ও সিগন্যাল পুনরাবৃত্তি করুন।
  • সড়ক আইন ও নিরাপদ চালনার নিয়ম বুঝে পড়ুন।
  • পর্যাপ্ত ঘুমান এবং পরীক্ষাকেন্দ্রে সময়ের আগে পৌঁছান।
  • প্রশ্ন ভালোভাবে পড়ে উত্তর দিন, তাড়াহুড়া করবেন না।

পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া অবশ্যই আনন্দের বিষয়, কিন্তু শেখার শেষ নয়। স্টিয়ারিং হাতে থাকলে অন্য মানুষের নিরাপত্তার দায়িত্বও আপনার হাতে থাকে। তাই পরীক্ষার প্রস্তুতির পাশাপাশি দায়িত্বশীল চালক হওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।

আরও পড়ুন

সরকারি তথ্যসূত্র

সম্পাদকীয় নোট: প্রশ্নগুলো অনুশীলনের জন্য তৈরি, BRTA-এর অফিসিয়াল প্রশ্নপত্র নয়। পরীক্ষার তারিখ, কাঠামো ও নির্দেশনা BRTA কেন্দ্র বা Service Portal থেকে নিশ্চিত করুন।

আর. এস ড্রাইভিং ট্রেনিং সেন্টার ২ || দক্ষ ড্রাইভার তৈরিতে আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। মোবাইলঃ ০১৬৭৫-৫৬৫ ২২২ অফিস ঠিকানাঃ হাউজ-১৫৪/এ, রোড-০২, ব্লক-এ, সেকশন-১২, পল্লবী মিরপুর ঢাকা-১২১৬।

Sharing Is Caring:

Leave a Comment