১ ক্লিকে ড্রাইভিং লাইসেন্স ডাউনলোড করুন
সার্চবারে লিখুন Driving, কন্টেন্টি মনযোগ সহকারে পড়ুন। পরবর্তী ধাপ অনুসরন করুন।
২০২৬ সালে বাংলাদেশে সেকেন্ড হ্যান্ড গাড়ির দাম কত? টয়োটা, হোন্ডা ও নিসানের জনপ্রিয় মডেলের লেটেস্ট প্রাইস এবং বিআরটিএ-র নতুন ট্যাক্স নিয়ম জানুন এক ক্লিকেই। সাশ্রয়ী বাজেটে আপনার স্বপ্নের গাড়িটি খুঁজে পেতে পড়ুন আমাদের এই পূর্ণাঙ্গ গাইড।
একনজরে প্রধান আপডেটসমূহ
- নতুন আমদানি নীতি ২০২৫-২৮: ৫ বছরের বেশি পুরোনো গাড়ি আমদানির সুযোগ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে, যা ব্যবহৃত গাড়ির বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে।
- এলসি (LC) মার্জিন শিথিল: গাড়ি আমদানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক এলসি মার্জিন ১০০% থেকে কমিয়ে ৫০% করেছে, যার ফলে বাজারে গাড়ির সরবরাহ বেড়েছে।
- সিসি ভিত্তিক ট্যাক্স: ১৫০০ সিসি পর্যন্ত গাড়ির বার্ষিক ট্যাক্স এবং ফি বর্তমানে প্রায় ৪০,০০০-৪৫,০০০ টাকা।
- এনভায়রনমেন্টাল সারচার্জ: আপনার নামে একাধিক গাড়ি থাকলে দ্বিতীয় গাড়ির জন্য বড় অংকের পরিবেশ সারচার্জ দিতে হবে।
- ইভি (EV) বা ইলেকট্রিক গাড়ি: পরিবেশবান্ধব গাড়ির ব্যবহার উৎসাহিত করতে শুল্ক ছাড়ের সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশে সেকেন্ড হ্যান্ড গাড়ির দাম ২০২৬

বাংলাদেশে মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্তের কাছে একটি নিজস্ব গাড়ি কেবল শখ নয়, বরং প্রয়োজনে পরিণত হয়েছে। নতুন গাড়ির আকাশচুম্বী দামের কারণে সাধারণ মানুষের প্রথম পছন্দ হলো ব্যবহৃত বা সেকেন্ড হ্যান্ড গাড়ি। আপনি যদি ২০২৬ সালে এসে একটি ভালো মানের ব্যবহৃত গাড়ি কিনতে চান, তবে আপনাকে সাম্প্রতিক বাজারের হালচাল এবং সরকারি নিয়মগুলো সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখতে হবে।
১. ২০২৬ সালের নতুন আমদানি নীতি ও তার প্রভাব
২০২৬ সালের শুরুতেই বাংলাদেশ সরকার আমদানি নীতি ২০২৫-২৮ এর খসড়া অনুমোদন করেছে। এই নতুন নীতি অনুযায়ী, আগে যেখানে ৫ বছরের বেশি পুরোনো গাড়ি আমদানিতে কঠোর বিধিনিষেধ ছিল, এখন সেখানে কিছু শিথিলতা আনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এই নিয়মটি কার্যকর হওয়ার ফলে জাপানি রিকন্ডিশন্ড গাড়ির পাশাপাশি সেকেন্ড হ্যান্ড মার্কেটে গাড়ির দাম কিছুটা স্থিতিশীল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বর্তমানে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে গাড়ির চাহিদা মেটাতে আমদানিকারকরা বড় ধরনের সুবিধা পাচ্ছেন। এলসি (LC) খোলার ক্ষেত্রে কড়াকড়ি কমিয়ে আনা হয়েছে। আমদানি নীতি ২০২৫-২৮ এর আপডেট অনুযায়ী ব্যবসায়ীরা এখন আরও সহজে জাপানি ব্যবহৃত গাড়ি সংগ্রহ করতে পারছেন, যার সুফল সরাসরি ক্রেতারা পাচ্ছেন।
২. জনপ্রিয় গাড়ির বর্তমান বাজার দর (সেকেন্ড হ্যান্ড)

২০২৬ সালে বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি চাহিদা রয়েছে টয়োটা (Toyota), হোন্ডা (Honda) এবং নিসান (Nissan) ব্র্যান্ডের গাড়ির। নিচে বর্তমান বাজারের গড় মূল্যের একটি টেবিল দেওয়া হলো:
ব্যবহৃত গাড়ির মূল্য তালিকা ২০২৬
| গাড়ির মডেল | উৎপাদনের বছর | আনুমানিক বাজার মূল্য (টাকা) |
| Toyota Axio (Hybrid/Petrol) | ২০১৪ – ২০১৬ | ১৭.৫০ লাখ – ২০.৫০ লাখ |
| Toyota Allion (A15) | ২০১৩ – ২০১৫ | ২২.০০ লাখ – ২৬.০০ লাখ |
| Toyota Premio (F EX) | ২০১৫ – ২০১৭ | ২৯.০০ লাখ – ৩৪.০০ লাখ |
| Toyota Aqua (Hybrid) | ২০১৭ – ২০১৯ | ১৬.৫০ লাখ – ১৯.০০ লাখ |
| Honda Grace (Hybrid) | ২০১৬ – ২০১৮ | ১৮.০০ লাখ – ২১.০০ লাখ |
| Toyota Noah (Noah G) | ২০১৪ – ২০১৬ | ২৬.০০ লাখ – ৩০.০০ লাখ |
| Nissan X-Trail | ২০১৩ – ২০১৫ | ২৫.০০ লাখ – ৩০.০০ লাখ |
নোট: গাড়ির কন্ডিশন, মাইলেজ এবং অকশন গ্রেডের ওপর ভিত্তি করে এই দাম কিছুটা কম-বেশি হতে পারে।
Read More: কম দামে গাড়ি কোথায় পাওয়া যায়?
৩. বিআরটিএ (BRTA) নিবন্ধন ও বার্ষিক ট্যাক্স আপডেট
সেকেন্ড হ্যান্ড গাড়ি কেনার সময় নিবন্ধনের মেয়াদ এবং বকেয়া ট্যাক্স পরীক্ষা করা বাধ্যতামূলক। ২০২৬ সালের বাজেট অনুযায়ী, ব্যক্তিগত গাড়ির জন্য সিসি (CC) ভিত্তিক অগ্রিম আয়কর (AIT) এবং ট্যাক্স টোকেন ফি অপরিবর্তিত রাখা হলেও পরিবেশ সারচার্জের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।
বিআরটিএ-র সর্বশেষ ফি তালিকা অনুযায়ী:
- ১৫০০ সিসি পর্যন্ত গাড়ি: বার্ষিক অগ্রিম আয়কর ২৫,০০০ টাকা এবং অন্যান্য ফি সহ মোট খরচ দাঁড়ায় প্রায় ৪৩,৯৬৪ টাকা।
- ১৫০১ – ২০০০ সিসি গাড়ি: বার্ষিক অগ্রিম আয়কর ৫০,০০০ টাকা।
- ২০০০ সিসি এর উপরে: আয়কর ৭৫,০০০ টাকা থেকে শুরু করে সিসি ভেদে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
আপনি যদি সেকেন্ড হ্যান্ড গাড়ির মালিকানা পরিবর্তনের সঠিক পদ্ধতি জানতে চান, তবে মালিকানা পরিবর্তনের নিয়মাবলী ২০২৬ সম্পর্কে বিআরটিএ-র অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে বিস্তারিত জেনে নিতে পারেন।
৪. মাল্টিপল কার এবং পরিবেশ সারচার্জ (Carbon Tax)
২০২৬ সালে সরকার পরিবেশ দূষণ কমাতে কার্বন ট্যাক্স বা পরিবেশ সারচার্জ কঠোরভাবে কার্যকর করেছে। আপনার যদি ইতোমধ্যে একটি গাড়ি থাকে এবং আপনি দ্বিতীয় আরেকটি গাড়ি কিনতে চান, তবে আপনাকে নির্দিষ্ট হারে সারচার্জ দিতে হবে:
- ১৫০০ সিসি পর্যন্ত ২য় গাড়ির জন্য: ২৫,০০০ টাকা।
- ১৫০১ – ২০০০ সিসি পর্যন্ত ২য় গাড়ির জন্য: ৫০,০০০ টাকা।
- ৩০০০ সিসি এর উপরে ২য় গাড়ির জন্য: ২,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত।
৫. হাইব্রিড ও ইলেকট্রিক গাড়ির (EV) চাহিদা
জ্বালানি সাশ্রয় এবং পরিবেশবান্ধব হওয়ায় ২০২৬ সালে বাংলাদেশে হাইব্রিড ও ইলেকট্রিক গাড়ির চাহিদা তুঙ্গে। টয়োটা অ্যাকুয়া (Toyota Aqua) এবং সি-এইচআর (C-HR) হাইব্রিড এখন সেকেন্ড হ্যান্ড মার্কেটে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া, সরকার ইলেকট্রিক গাড়ির (EV) ওপর শুল্ক কমিয়ে ৩৭% এ নামিয়ে আনার পরিকল্পনা করছে, যা আগামীতে ব্যবহৃত ইভি গাড়ির দাম আরও সাশ্রয়ী করবে।
Expert Opinion (বিশেষজ্ঞের মতামত)
২০২৬ সালে বাংলাদেশে সেকেন্ড হ্যান্ড গাড়ি কেনা একটি বুদ্ধিমানের কাজ হতে পারে যদি আপনি সঠিক সোর্স থেকে গাড়িটি পছন্দ করেন। বর্তমানে বাজারে সরবরাহ বাড়ায় দাম কিছুটা সহনীয়। তবে গাড়ি কেনার আগে অবশ্যই চেসিস নাম্বার যাচাই এবং বিআরটিএ-র ডেটাবেজে কোনো মামলা বা বকেয়া আছে কি না তা চেক করে নেবেন। বিশেষ করে হাইব্রিড গাড়ির ক্ষেত্রে ব্যাটারির স্থায়িত্ব এবং হেলথ রিপোর্ট দেখা খুবই জরুরি। — সৈয়দ আরমান, অটোমোবাইল কনসালটেন্ট ও অটো-এক্সপার্ট।
FAQ (সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী)
১. ৫ বছরের বেশি পুরোনো গাড়ি কি এখন বৈধ?
হ্যাঁ, নতুন আমদানি নীতি ২০২৫-২৮ এর প্রস্তাবনা অনুযায়ী ৫ বছরের বেশি পুরোনো গাড়ি আমদানির সুযোগ দেওয়া হয়েছে, তবে এক্ষেত্রে সিসি ও মডেল ভেদে কিছু শর্ত প্রযোজ্য হতে পারে।
২. বাংলাদেশে ব্যবহৃত গাড়ির লোন সুবিধা কেমন?
২০২৬ সালে বিভিন্ন ব্যাংক এবং লিজিং কোম্পানি ব্যবহৃত গাড়ির মূল্যের ৬০% পর্যন্ত লোন প্রদান করছে, যার সুদের হার বর্তমানে ৯% থেকে ১১% এর মধ্যে।
৩. ব্যবহৃত হাইব্রিড গাড়ি কেনা কি ঝুঁকিপূর্ণ?
না, তবে আপনাকে ব্যাটারি কন্ডিশন এবং ইনভার্টার চেক করতে হবে। জাপানি রিকন্ডিশন্ড বা ব্যবহৃত হাইব্রিড গাড়িগুলো সাধারণত বাংলাদেশে ভালো সার্ভিস দেয়।
৪. মালিকানা পরিবর্তন করতে কত সময় লাগে?
বিআরটিএ-র নতুন ডিজিটাল সিস্টেমের মাধ্যমে বায়োমেট্রিক এবং ফি প্রদান সম্পন্ন করার পর সাধারণত ১৫ থেকে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে মালিকানা পরিবর্তন সম্পন্ন হয়।
উপসংহার
পরিশেষে বলা যায়, ২০২৬ সালে বাংলাদেশে সেকেন্ড হ্যান্ড গাড়ির বাজার আগের চেয়ে অনেক বেশি সুসংগঠিত এবং তথ্যনির্ভর। সরকারের নতুন আমদানি নীতি ২০২৫-২৮ এবং ব্যাংক লোনের এলসি মার্জিন শিথিল করার সিদ্ধান্তটি সাধারণ ক্রেতাদের জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা বয়ে এনেছে। যদিও ব্যক্তিগত গাড়ির ক্ষেত্রে ট্যাক্স এবং পরিবেশ সারচার্জ কিছুটা চিন্তার কারণ হতে পারে, তবুও হাইব্রিড এবং সাশ্রয়ী মডেলের গাড়িগুলো দীর্ঘমেয়াদে আপনার যাতায়াত খরচ কমিয়ে আনতে সহায়ক হবে।
একটি সেকেন্ড হ্যান্ড গাড়ি কেনার সময় কেবল বাহ্যিক চাকচিক্য না দেখে গাড়ির ইঞ্জিন কন্ডিশন, পেপারস আপডেট এবং বিআরটিএ-র ক্লিয়ারেন্স গুরুত্বের সাথে যাচাই করুন। আপনার বাজেট এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক সিদ্ধান্তটি নিতে পারলে ২০২৬ সাল হতে পারে আপনার স্বপ্নের গাড়িটি গ্যারেজে তোলার সেরা সময়। বাজারে দামের উঠানামা এবং সরকারি যেকোনো নতুন প্রজ্ঞাপন সম্পর্কে সর্বদা সচেতন থাকুন।
