১ ক্লিকে ড্রাইভিং লাইসেন্স ডাউনলোড করুন
সার্চবারে লিখুন Driving, কন্টেন্টি মনযোগ সহকারে পড়ুন। পরবর্তী ধাপ অনুসরন করুন।
নতুন নিয়মে ড্রাইভিং লাইসেন্স হয়েছে কিনা কিভাবে দেখবেন? ঘরে বসেই অনলাইনে স্ট্যাটাস চেক, ই-লাইসেন্স ডাউনলোড এবং অ্যাপের মাধ্যমে যাচাই করার সঠিক গাইড জানুন।
ড্রাইভিং লাইসেন্স হয়েছে কিনা কিভাবে দেখবো

অনলাইনে ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষার রেজাল্ট বা কার্ড প্রিন্টিংয়ের অবস্থা জানতে এখন আর বিআরটিএ অফিসে লাইন ধরার প্রয়োজন নেই। ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (BRTA) তাদের সিস্টেমকে অনেক বেশি আধুনিক ও ইউজার ফ্রেন্ডলি করেছে। আজকের এই ব্লগে আমরা জানবো ড্রাইভিং লাইসেন্স হয়েছে কিনা তা দেখার দ্রুততম পদ্ধতিগুলো।
২০২৬ সালে বাংলাদেশে ড্রাইভিং লাইসেন্সের বর্তমান অবস্থা যাচাই করা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সহজ ও স্মার্ট। বর্তমানে বিআরটিএ সার্ভিস পোর্টাল (BSP) ব্যবহার করে যে কেউ ঘরে বসেই লাইসেন্সের বিস্তারিত তথ্য অনলাইনে চেক করতে পারছেন। দ্রুত আপডেটের জন্য ‘BRTA DL Checker’ মোবাইল অ্যাপটি এখন সবচেয়ে জনপ্রিয় মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। যাদের ইন্টারনেট সংযোগ নেই, তারা সাধারণ মোবাইল ফোন থেকে ২৬৯৬৯ নম্বরে একটি এসএমএস পাঠিয়েই মুহূর্তের মধ্যে নিজের লাইসেন্সের স্ট্যাটাস জেনে নিতে পারছেন। এছাড়া ২০২৬ সালের নতুন সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, হাতে মূল স্মার্ট কার্ড পাওয়ার আগেই কিউআর কোড সম্বলিত ই-পেপার ড্রাইভিং লাইসেন্স দিয়ে রাস্তায় গাড়ি চালানো সম্পূর্ণ বৈধ হিসেবে গণ্য হচ্ছে, যা চালকদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমিয়ে দিয়েছে।
ড্রাইভিং লাইসেন্সের বর্তমান অবস্থা জানা কেন জরুরি?
একজন চালক হিসেবে লার্নার কার্ড পাওয়ার পর লিখিত, মৌখিক ও ফিল্ড টেস্টে উত্তীর্ণ হওয়ার পর মূল লাইসেন্সের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। বর্তমানে বাংলাদেশে স্মার্ট কার্ড ড্রাইভিং লাইসেন্স বিতরণে আগের চেয়ে অনেক বেশি গতি এসেছে। তবে প্রিন্টিং জট বা কুরিয়ার সার্ভিসের কারণে অনেক সময় দেরি হতে পারে। তাই আপনার কার্ডটি এখন কোথায় আছে বা এটি পুলিশ ভেরিফিকেশন পর্যায়ে আছে কিনা, তা জানা থাকলে অপ্রয়োজনীয় টেনশন থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
আপনি যদি একদম নতুন হয়ে থাকেন এবং এখনো আবেদন না করে থাকেন, তবে জেনে নিতে পারেন ড্রাইভিং লাইসেন্স করার সহজ নিয়ম যা আপনার আবেদন প্রক্রিয়াকে সহজ করবে।
১. বিআরটিএ সার্ভিস পোর্টাল (BSP) এর মাধ্যমে চেক করার নিয়ম
সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য এবং অফিশিয়াল উপায় হলো বিআরটিএ-র নিজস্ব পোর্টাল ব্যবহার করা।
ধাপসমূহ:
- প্রথমে আপনার ব্রাউজার থেকে Brta Website -এ যান।
- আপনার যদি আগে অ্যাকাউন্ট করা থাকে তবে লগইন করুন। না থাকলে নাম, মোবাইল নম্বর এবং এনআইডি দিয়ে নিবন্ধন করে নিন।
- ড্যাশবোর্ডে গিয়ে ড্রাইভিং লাইসেন্স সেকশনে ক্লিক করুন।
- আপনার রেফারেন্স নম্বর বা ডিএল নম্বর ইনপুট দিন।
- সাথে সাথেই স্ক্রিনে দেখতে পাবেন আপনার লাইসেন্সটি Accepted, Printed নাকি Shipped অবস্থায় আছে।
২. BRTA DL Checker অ্যাপ দিয়ে ড্রাইভিং লাইসেন্স চেক
স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের জন্য এটি সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি। ২০২৬ সালের আপডেট অনুযায়ী অ্যাপটিতে এখন রিয়েল-টাইম ট্র্যাকিং সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে।
কিভাবে করবেন:
- গুগল প্লে স্টোর থেকে BRTA DL Checker অ্যাপটি ডাউনলোড করুন।
- অ্যাপটি ওপেন করে আপনার Reference Number (যা লার্নার কার্ড বা অস্থায়ী লাইসেন্সে থাকে) দিন।
- আপনার জন্ম তারিখ (Date of Birth) সঠিক ফরম্যাটে দিন।
- ‘Submit’ বাটনে ক্লিক করলেই আপনার লাইসেন্সের বর্তমান স্ট্যাটাস এবং ছবিসহ বিস্তারিত তথ্য দেখতে পাবেন।
৩. এসএমএস (SMS) এর মাধ্যমে চেক করার পদ্ধতি
যাদের কাছে স্মার্টফোন বা ইন্টারনেট নেই, তারা যেকোনো বাটন ফোন থেকে একটি সাধারণ এসএমএস পাঠিয়েই স্ট্যাটাস জানতে পারেন।
মেসেজ ফরম্যাট: আপনার মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে টাইপ করুন:DL <Space> Reference Number(উদাহরণ: DL 987654321)। এরপর এটি পাঠিয়ে দিন ২৬৯৬৯ নম্বরে। ফিরতি মেসেজে আপনাকে জানানো হবে আপনার লাইসেন্সটি প্রস্তুত হয়েছে কিনা।
২০২৬ সালের নতুন নিয়ম: ই-ড্রাইভিং লাইসেন্স ডাউনলোড

বাংলাদেশ সরকার এবং বিআরটিএ এখন ডিজিটাল কপি বা ই-লাইসেন্সকে অনেক বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। আপনার ড্রাইভিং লাইসেন্স কার্ডটি যদি প্রিন্টিং হতে দেরি হয়, তবে আপনি অনলাইনে আপনার ই-পেপার লাইসেন্স ডাউনলোড করে নিতে পারেন।
বিএসপি (BSP) পোর্টাল থেকে কিউআর কোডসহ এই ই-লাইসেন্স ডাউনলোড করে প্রিন্ট করলে তা রাস্তায় ট্রাফিক পুলিশ চেক করলে বৈধ হিসেবে গণ্য হবে। এটি ২০২৬ সালের গেজেট অনুযায়ী সম্পূর্ণ আইনসিদ্ধ।
ড্রাইভিং লাইসেন্স স্ট্যাটাসের প্রকারভেদ (টেবিল)
| স্ট্যাটাস (Status) | এর অর্থ কী? | পরবর্তী পদক্ষেপ |
| Pending for Approval | আপনার আবেদনটি যাচাই করা হচ্ছে। | কয়েকদিন অপেক্ষা করুন। |
| Pending for Printing | আবেদন সফল, কার্ড প্রিন্ট হওয়ার লাইনে আছে। | ১০-১৫ দিন সময় লাগতে পারে। |
| Card Printed | আপনার স্মার্ট কার্ডটি প্রিন্ট হয়ে গেছে। | পোস্ট অফিসের মেসেজের জন্য অপেক্ষা করুন। |
| Shipped/Dispatched | কার্ডটি আপনার ঠিকানায় পাঠানো হয়েছে। | নিকটস্থ পোস্ট অফিস বা বিআরটিএ অফিসে যোগাযোগ করুন। |

প্রশ্নাবলী (FAQ)
প্রশ্ন ১: রেফারেন্স নম্বর হারিয়ে গেলে কি করবো?
উত্তর: আপনি যে বিআরটিএ অফিস থেকে বায়োমেট্রিক দিয়েছেন, সেখানে যোগাযোগ করে আপনার এনআইডি দেখালে তারা রেফারেন্স নম্বরটি পুনরায় দিয়ে দিবে। অথবা অনলাইনে লার্নার কপি থেকেও এটি পেতে পারেন।
প্রশ্ন ২: কার্ড প্রিন্ট হতে কতদিন সময় লাগে?
উত্তর: বর্তমানে ২০২৬ সালে এটি অনেক দ্রুত হচ্ছে। সাধারণত ১৫ থেকে ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে কার্ড প্রিন্ট সম্পন্ন হয়ে যায়।
প্রশ্ন ৩: ই-লাইসেন্স দিয়ে কি বিদেশ যাওয়া সম্ভব?
উত্তর: না, দেশের বাইরে গাড়ি চালানোর জন্য আপনাকে অবশ্যই অরিজিনাল স্মার্ট কার্ড এবং প্রয়োজনে ইন্টারন্যাশনাল ড্রাইভিং পারমিট (IDP) সংগ্রহ করতে হবে।
বিশেষজ্ঞ মতামত ও লেখকের কথা
আহমেদ হাসান সিনিয়র ট্রান্সপোর্ট কনসালটেন্ট ও অটোমোবাইল বিশেষজ্ঞ বিআরটিএ-র ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন এবং ট্রাফিক আইন নিয়ে আমি গত ১০ বছর ধরে কাজ করছি। ২০২৬ সালের নতুন অটোমেশন সিস্টেম চালকদের জীবন অনেক সহজ করে দিয়েছে। আমার পরামর্শ হলো, স্মার্ট কার্ড হাতে না পাওয়া পর্যন্ত সবসময় বিএসপি পোর্টাল থেকে ই-লাইসেন্সের রঙিন কপি সাথে রাখুন এবং বিআরটিএ-র অফিশিয়াল ওয়েবসাইট (brta.gov.bd) ছাড়া অন্য কোথাও ব্যক্তিগত তথ্য দেবেন না।
বি.দ্র.: আপনার লাইসেন্স সংক্রান্ত কোনো সমস্যা হলে সরাসরি আপনার সংশ্লিষ্ট সার্কেল অফিসে (যেমন: মিরপুর, ঢাকা মেট্রো-১ বা উত্তরা) যোগাযোগ করুন। মধ্যস্বত্বভোগী বা দালালের সহায়তা এড়িয়ে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করাই বুদ্ধিমানের কাজ।